তেঁতুল বৃহৎ ও সুদৃশ্য চিরসবুজ বৃক্ষ। এর বৈজ্ঞানিক নাম Tamarindus indica। এটি Fabaceae পরিবারের Tamarindus গণের অন্তর্ভুক্ত টক জাতীয় ফলের গাছ। এই গাছ প্রায় ২৪ মিটার পর্যন্ত লম্বা হয়। কাণ্ডের বেড় প্রায় ৭ থেকে ৮ মিটার পর্যন্ত হতে পারে। যৌগিক পাতা চিরুনির মতো ছোট ছোট করে সাজানো থাকে, ফুলের রঙ হালকা বাদামি বা হলুদ লালচে দাগ থাকে। ফুলে পাপড়ি ৫টি। তেঁতুল ফল লম্বায় ১৫ থেকে ২০ সেন্টিমিটার কাস্তের মতো বাঁকা ও সোজাও দেখতে পাওয়া যায়। গাছের ডালে থোকা থোকা তেঁতুল পাকে ফাল্গুন-চৈত্রে। ঘ্রাণ টক-মিষ্টি। পাকা তেঁতুলের খোসা মচমচে এবং ভেতরে পুরু শাঁস থাকে। তেঁতুল কাঁচা থাকলে সবুজ এবং পাকলে বাদামি রঙের হয়। প্রতি ফলে ৫ থেকে ১২টি বীজ থাকে, বীজের রঙ খয়েরি।বাংলাদেশের প্রায় সব জেলাতেই কম বেশি তেঁতুল গাছ জন্মে। তবে দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, রংপুর, বগুড়া ও গাজীপুর জেলায় বেশি দেখা যায়। এছাড়াও ভারতের সব প্রদেশে এই গাছ দেখতে পাওয়া যায়। তেঁতুল গাছের ছাল,পাতা,কাঁচা ও পাকা ফলের বীজের শাঁস নানা ঔষধে ব্যবহৃত হয়। এছাড়াও তেঁতুল বীজের খোসা ও অনেক কাজে ব্যবহৃত হয়।
তেঁতুলের রাসায়নিক উপাদান :
পাকা তেঁতুল টক-মিষ্টি হয়ে থাকে। এতে রয়েছে উচ্চমাত্রার অ্যাসিড, চিনি,এবং ফলে সাধারণত না দেখা গেলেও এতে আছে ক্যালসিয়াম। এছাড়াও তেঁতুলে প্রচুর পরিমাণে শর্করা, ফসফরাস, লৌহ, ম্যাগনেসিয়াম, ভিটামিন বি-১, ভিটামিন বি-২, ভিটামিন- সি বিদ্যমান রয়েছে। যার ফলে তেঁতুল অনেক সমস্যা সমাধান করে।
উপকারিতা :
১। তেঁতুল অ্যালার্জি প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে। যার ফলে তেঁতুল খেলে কাশ, সর্দি ভালো হয়।
২। তেঁতুলে উচ্চ পরিমাণে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট আছে যা কিডনি ফেলিওর এবং কিডনি ক্যান্সার রোধ করতে সাহায্য করে।
৩। তেঁতুল ওজন কামাতে সাহায্য করে।
৪। তেঁতুল খেলে আমাদের লিভার বা যকৃত ভালো থাকে।
৫। তেঁতুল খেলে ত্বক উজ্জ্বল থাকে। কারন এতে থাকা হাইড্রক্সি অ্যাসিড ত্বককে ভালো রাখে।
৬। বাতের জন্য হাঁটু ফুলে গেছে চলতে হচ্ছে, তাহলে তেঁতুল পাতা সেদ্ধ করে বেটে অল্প গরম অবস্থায় লাগালে উপকার হয়।
৭। প্রসাবের জ্বালা হলে তেঁতুল পাতার রসের সাথে মিছরি মিশিয়ে খেলে উপকার পাওয়া যায়।
৮। আমবাত হলে তেঁতুলের শাঁস পানি দিয়ে অল্প বেটে গায়ে মেখে ১০ মিনিট রাখলে আমবাত ভালো হয়।
৯। তেঁতুল পাতা সেদ্ধ করে সেই পানি দিয়ে কুলকুচি করলে মুখের ক্ষত ভালো হয়।
১০। পাকা তেঁতুল রাতে ভিজিয়ে রেখে সকালে তেঁতুল না চটকে শুধু পানি খেলে হাত পায়ের জ্বালা কমে যাবে।